আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলা এর মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার কিছু কারন রয়েছে। অনেকেই বলতে শুনেছি আমেরিকা ভেনিজুয়েলা কে দখল করেছে। একটি সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারণা। মূলত আমেরিকা ভেনিজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলা এর মধ্যে কেন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তার বিস্তারিত আপনাদের মাঝে শেয়ার করার চেষ্টা করব। আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলা এর মধ্যকার শোমোশয়া বর্তমানে চরম পর্যায়ে রুপ নিয়েছে।
তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ
মুলত ভেনিজুয়েলার কাছে বিশ্বের অন্যতম বড় তেলের খনির মজুদ আছে। আমেরিকা চায় সেখানে এমন সরকার থাকুক যারা পশ্চিমা বিশ্ববান্ধব নীতি মেনে চলে। অর্থাৎ আমেরিকাকে তেল প্রদান করে। মাদুরো সরকার সেই পথে না যাওয়ার কারণে আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলা এর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আমেরিকা চেষ্টা করেছে ভেনিজুয়েলার সরকার কে নিয়ন্ত্রণ করতে। আমেরিকার কথামত সে দেশের সরকার যেনো কাজ করে। তাই বিভিন্ন ইস্যু ও কৌশলে ভেনিজুয়েলার সরকার কে পতন করিয়েছে। যাতে করে ভেনিজুয়েলার পরবর্তী সরকার আমেরিকাকে তেল প্রদান করে ও পশ্চিমাদের নীতিতে চলে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করে আমেরিকার নজর মুলত তেলের খনিত ও বিভিন্ন খনিন সম্পদের দিকেই।
আমাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে জয়েন করুন
সমাজতান্ত্রিক সরকার বনাম আমেরিকার নীতি
পীর্বের সরকার হুগো শ্যাভেজ এবং পরে নিকোলাস মাদুরো সমাজতান্ত্রিক ও আমেরিকা-বিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। তারা ২ সরকার ই আমেরিকাবিরোধী ছিলো এবং পশ্চিমাদের এড়িয়ে চলতো। আমেরিকা মনে করেছে এটি তাদের জন্য হুমকিস্বরুপ। আমেরিকা এটাকে তাদের প্রভাবের জন্য হুমকি মনে করেছে। যার ফলে আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমেরিকা ও পশ্চিমাদের প্ল্যান অনুযায়ী ভেনিজুয়েলার সরকারকে পতন করিয়েছে। কিন্তু এমন কোনো অভিযোগ নেই যে ভেনিজুয়েলার সরকার এমন কোনো কাজ করছেন।
মানবাধিকার ও গণতন্ত্র ইস্যু
আমেরিকার অভিযোগ রয়েছে যে, ভেনিজুয়েলায় নির্বাচন সুষ্ঠু নয়।সেখানে বিরোধী দল দমন করা হয়। যার ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। এই কারণে আমেরিকা ভেনিজুয়েলার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (sanctions) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পিছনে আমেরিকার পরবর্তী প্ল্যান অন্তর্ভূক্তী রয়েছে। আমেরিকা তাদের নির্দিষ্ট প্ল্যান অনুযায়ী এগিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের পরবর্তী কাজ আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
আরো পড়ুন : মানুষের মুখের ভাষা বোঝার ২০ টি কার্যকরী সংকেত জেনে নিন
চীন ও রাশিয়ার প্রভাব
চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ দেশগুলোকে আমেরিকা শত্রু মনে করে। ভেনিজুয়েলা এখন চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। ভেনিজুয়েলা চীন ও রাশিয়াকে তেল সরবরাহ করে। যা আমেরিকার চোখে মোটেও ভালো লাগেনি। মুলত আমেরিকা চায় না লাতিন আমেরিকায় তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব বাড়ুক। আমেরিকা একাই সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ভেনিজুয়েলার উপর আমেরিকার হস্তক্ষেপে চীন ও রাশিয়া এগিয়ে আসার কথা থাকলেও তারা চুপ রয়েছে।
ভেনিজুয়েলার সরকার পতনে আমেরিকার লাভ কি?
ভেনিজুয়েলার কাছে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্তেল মজুদ রয়েছে। ভেনিজুয়েলার তেল সস্তায় পাওয়া যায়। ভেনিজুয়েলার তেল নিয়ে আমেরিকা তাদের নিজস্ব তেল কোম্পানির ব্যবসা বাড়াতে পারবে। আমেরিকা এখন জ্বালানি বাজারের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করতে পারবে।
ভেনিজুয়েলা হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার জন্যএকটি কৌশলগত দেশ। এই দেশ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব থাকলে পুরো অঞ্চলে আমেরিকার রাজনৈতিক প্রভাব বেড়ে যাবে। যার ফলে আমেরিকা-বিরোধী জোটগুলো দুর্বল হয়ে যাবে।
বর্তমানে ভেনিজুয়েলা চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ দেশ। ভেনিজুয়েলার উপর প্রভাব বিস্তার করে চীন ও রাশিয়া এই দুই শক্তির প্রভাব কমাতে পারবে। নিজেদের নিরাপত্তা ও আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে।
ভেনিজুয়েলা ভেঙ্গে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ব্যবহার বেড়ে যাবে। যা আমেরিকার জন্য লাভজনক ও আমেরিকার অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে।





