ড্রোন কেনার আগে শুধু ক্যামেরা বা দাম দেখলেই হবে না। আপনাকে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রেখেই ড্রোন কেনার চিন্তাভাবনা করতে হবে। ড্রোন কেনার আগে ভালো ড্রোন বেছে নিতে গুরুত্বপূর্ণ নিচের ১০টি বিষয় মাথায় রাখুন। তাহলে আপনি ড্রোন কেনার আগে কখনোই চিন্তায় পড়বেন না। এই ১০ টি বিষয় আপনাকে ড্রোন কেনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।
বাজেট নির্ধারণ করুন
শুধুমাত্র ড্রোন কেনার বাজেট রাখলে হবেনা। ড্রোনের দাম ছাড়াও অতিরিক্ত ব্যাটারি, মেমোরি কার্ড, প্রপেলার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনা করতে হবে। ড্রোনের কম্বো প্যাক কিনলে আপনি অতিরিক্ত ব্যাটারী ও প্রপেলার পাবেন। অন্যথায় আপনি ড্রোনের সাথে শুধুমাত্র একটি ব্যাটারী পাবেন। ড্রোনে যদি ভালো স্টোরেজ না থাকে, তাহলে আপনাকে অতিরিক্ত মেমোরি কার্ড কেনার চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। তাই সেভাবেই বাজেট নির্ধারণ করুন।
ক্যামেরার মান দেখুন
বর্তমানে মিডিয়াম ও উচ্চ মানের ড্রোন মার্কেটে অয়াওয়া যায়। ড্রোন কিনতে যাওয়ার আগে বিভিন্ন রকমের ড্রোনের রিভিউ দেখে নিন। যাতে আপনি ভালো ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারেন। 4K ভিডিও, ভালো Dynamic Range, কম আলোতে পারফরম্যান্স এবং ছবির মান ও আপনার কাজ অনুযায়ী যাচাই করুন। আপনি যদি ভালো ভিডিও ফুটেজ পেতে চান তাহলে আপনাকে মিনিমাম 4K সাপোর্ট ক্যামেরা দেখতে হবে। বর্তমানে 8K মানের ফুটেজ দেয় এমন ড্রোন ও রয়েছে।
ব্যাটারি ব্যাকআপ
ড্রোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ড্রোনের ব্যাটারী। যদি একসাথে বেশি ফুটেজ প্রয়োজন হয় তাহলে আপবাকে কম্বো প্যাক নিতে হবে। যাতে আপনি এক্সট্রা ব্যাটারী দিয়্ব ভিডিও রেকর্ড করতে পারেন।এক চার্জে কত মিনিট উড়তে পারে দেখুন। দীর্ঘ সময় শুটিং করলে অতিরিক্ত ব্যাটারি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
More Read : ফেসবুক একাউন্টের গোপন সেটিংস যা অবশ্যই জেনে রাখতে হবে
GPS ও Return-to-Home (RTH)
GPS এবং নির্ভরযোগ্য RTH ফিচার থাকলে সিগন্যাল হারালে বা ব্যাটারি কমে গেলে ড্রোন নিরাপদে ফেরার সম্ভাবনা বাড়ে। এমন ফিচারগুলো আপডেট ড্রোন্ব রয়েছে। আপডেট ড্রোন নিতে চাইলে আপনাকে বাজেট বাড়াতে হবে। GPS ভালো হলে আপনার ড্রোন ক্র্যাশ করার সম্ভাবনা খুবই কম।
Obstacle Avoidance
সামনে, পেছনে, পাশে ও নিচে বাধা শনাক্ত করার সেন্সর থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। বর্তমানে যেসব ড্রোন মার্কেটে আসতেছে সব ড্রোনে সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই ড্রোন নেওয়ার সময় আপডেট মডেল এর ড্রোন নিন। ড্রোনে সেন্সর থাকলে নতুন ড্রোন পাইলট দের জন্য খুব কাজে আসে।
ড্রোনের ওজন
হালকা ড্রোন বহন করা সহজ, তবে কিছু ক্ষেত্রে ভারী মডেলে বেশি স্থিতিশীলতা ও উন্নত ফিচার পাওয়া যায়। আপনার ড্রোন হালকা হলে ভারী বাতাসে ড্রোনের স্থিতিশীলতা থাকেনা। ভারী ড্রোন বেশি বাতাসেও ভালো পার্ফর্মেন্স দেয়। তবে দেশের বাইরে গিয়ে ড্রোন চালাতে চাইলে আপনাকে সে দেশের আইন অনুযায়ী ড্রোনের ওজন দেখে ড্রোন কিনতে হবে। বাংলাদেশে ২৫০ গ্রামের উপর ড্রোন উড়াতে চাইলে অনুমতির প্রয়োজন পড়ে।
Wind Resistance
বাইরে উড়ানোর জন্য ড্রোন কতটা বাতাস সহ্য করতে পারে তা দেখে নিন। কিছু কিছু ড্রোন আছে অল্প বাতাসেও ক্র্যাশ করার সম্ভাবনা থাকে। তাই ড্রোনের বাতাস সহ্য করার ক্ষমতা কতটুকু তা দেখেশুনে ড্রোন নিন।
Transmission Range
রিমোট থেকে ড্রোনের ভিডিও সিগন্যাল ও নিয়ন্ত্রণ কত দূর পর্যন্ত কার্যকর থাকে তা যাচাই করুন। আপনার যদি বেশি দুরত্ব থেকে ভিডিও করতে হয় তাহলে অবশ্যই রেঞ্জ দেখে ড্রোন বাচাই করতে হবে। সেক্ষেত্রে Dji Mini 5 pro আপনাকে সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার এবং dji mini 4 pro সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে সক্ষম।
আইন ও নিরাপত্তা বিধি
ড্রোন কেনার আগে বাংলাদেশে ড্রোন উড়ানোর বর্তমান নিয়ম, অনুমতি/নিবন্ধন এবং নিষিদ্ধ এলাকা সম্পর্কে জেনে নিন। কারণ আইন বহির্ভূত ড্রোন উড়ানোর কারণে আপনার সমস্যা হতে পারে। বাংলাদেশে ২৫০ গ্রাম ওজন পর্যন্ত ড্রোন উড়ানো যায়। এর বেশি ওজনের ড্রোন উড়ানোর ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
কিছু পরামর্শ আপনার জন্য
প্রথমবার ড্রোন কিনলে শুধু সর্বোচ্চ ক্যামেরা রেজোলিউশন নয়—GPS + RTH + Obstacle Avoidance + ভালো ব্যাটারি + স্থিতিশীল গিম্বাল এই সব বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিন। কারণ নতুন অবস্থায় আপনার একটু ভূলের জন্য ড্রোন ক্র্যাশ করতে পারে। যখন আপনার ড্রোন উড়ানোর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে তখন আপনি ভালো রেজ্যুলেশন দেখে ড্রোন বাছাই করতে পারবেন।









