হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই দুটিই ভাইরাসজনিত লিভারের রোগ। Hepatitis A And Hepatitis E সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। উন্নয়নশীল দেশে, বিশেষ করে যেখানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি আছে, সেখানে Hepatitis A And Hepatitis E বেশি দেখা যায়। আমাদের বাংলাদেশেও এই রোগ কিছু কিছু জায়গায় দেখা যায়। যদিও বেশিরভাগ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়। আমাদের অসচেতনতার অভাবে এই রোগ ছড়িয়ে থাকে। চলাফেরায় একটু সচেতন হলে এই রোগ সহজে মানুষের কাছে ধরা দেয়না।
হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই রোগ কিভাবে ছড়ায়?
মুলত আমাদের চলাফেরায় ত্রুটির কারণেই এই রোগ ছড়ায়। আমরা একটু সচেতন হলেই সহজেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
হেপাটাইটিস এ (Hepatitis A) ছড়ানোর বেশকিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান কিছু কারণ তুলে ধরা হলো।
দূষিত ও ময়লাযুক্ত পানি পান করলে
অপরিষ্কার বা দূষিত খাবার খেলে
রাস্তা ঘাটে থাকা বিভভিন রকমের অপরিষ্কার দোকান থেকে অপরিষ্কার খাবার গ্রহণ করলে।
টয়লেট ব্যবহারের পর হাত না ধুয়ে খাবার তৈরি করলে বা খেলে।
এই রোগে ইতমধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থাকলে বা সংস্পর্শে এলে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে।
হেপাটাইটিস ই (Hepatitis E) ছড়ানোর বেশকিছু কারণ রয়েছে৷ তার মধ্যে প্রধান কিছু কারণ তুলে ধরা হলো।
Read More : Whatsapp একাউন্টের গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস যা আপনাকে অবশ্যই জেনে রাখতে হবে
প্রধানত দূষিত পানি থেকে ছড়িয়ে থাকে।
অপরিষ্কার খাবার খাওয়ার ফলে।
বন্যা বা পানি দূষণের সময় এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
যারা গর্ভবতী, এসব নারীদের জন্য এটি একটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
Hepatitis A And Hepatitis E রোগের লক্ষণ।
দুটি রোগের লক্ষণ প্রায় একই রকম হতে পারে। দুটি রোগই একই কারণে হতে পারে। নিচে এই রোগের লক্ষণগুলো তুলে ধরা হলো।
জ্বর জ্বর অনুভব হতে পারে
শরীর দুর্বল লাগতে পারে
পেটে ক্ষুধামন্দা হতে পারে
বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে
পেটের ডান পাশে হালকা বা মাঝারী ব্যথা হতে পারে
শরীর চুলকাতে পারে
চোখ ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
হালকা রঙের পায়খানা হতে পারে
শরীর ব্যথা হতে পারে
অনেক সময় শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ খুব কম দেখা যায়। মধ্যবয়স্ক বা বয়স্ক ব্যক্তিদের মাঝে এই লক্ষণগুলো দেখা যায়।
এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ এই রোগ দীর্ঘ হলে মারাত্মত আকার ধারণ করতে পারে। অনেক সময় বাংলাদেশে তার চিকিৎসা নাও হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখার সাথে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট নেওয়া জরুরী।
হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই প্রতিরোধের উপায়গুলো জেনে নিন।
আমরা একটু সচেতন থাকলেই এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। আমাদের অসচেতনতার কারণেই এই রোগ আমাদের কাছে ধরা দেয়। তাই চলাফেরায় সচেতন হওয়া জরুরী।
নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
খাবার ভালোভাবে রান্না করতে হবে।
খাবারের আগে ও টয়লেটের পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
রাস্তার অপরিষ্কার খাবার খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলা
ফল ও সবজি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা
হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই রোগের টিকা
Hepatitis A এর টিকা আছে এবং অনেক দেশে দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও এই রোগের টিকা আছে।
Hepatitis E এর টিকা সীমিত কিছু দেশে পাওয়া যায়, তবে সবার জন্য সহজলভ্য নয়।
যদি কারও জন্ডিস, তীব্র দুর্বলতা বা দীর্ঘদিন বমি থাকে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Read More : মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে? ৫ গোপন সেটিংস জেনে নিন









