বিয়ে করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয়ের উপর প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। বিয়ে শুধু দুইজন মানুষের নয়, বরং দুই পরিবারের বন্ধন। বিয়ে করার পূর্বে আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে জীবনকে নতুনভাবে শুরু করার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নিলে সম্পর্ক আরও সুন্দর হয় এবং অপ্রত্যাশিত ঝামেলা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। তাই তাই বিয়ে করার পূর্বে মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক প্রস্তুতি
বিয়ে মানে শুধু ভালোবাসা নয়, দায়িত্বও বহন করা।
একে অপরকে বোঝার মানসিকতা থাকতে হবে।
ছোটখাটো তর্ক বা মতভেদ মেনে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা দরকার। তাই বিয়ে করার পূর্বে আপনাকে এসব বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
আরো টিপস পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জয়েণ করুন
আর্থিক প্রস্তুতি
সংসার চালানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করুন।আপনি বিয়ের পরে কিভাবে সংসার চালাবেন এবং আর্থিকভাবে কিভাবে স্বচ্ছলতা বহন করবেন তার একটি প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
বিয়ের খরচ কেমন হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় কিভাবে করা যায়, সেটা ভেবে নিন।
চাকরি বা আয়ের একটি স্থিতিশীল উৎস থাকলে বিবাহোত্তর জীবন অনেক সহজ হয়।
পারিবারিক প্রস্তুতি
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। কখনো বিয়ে করার জন্য নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে চাবেন না। নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিলেও আপনার কতটুকু প্রস্তুতি রয়েছে তা ভেবেচিন্তে থাকা দরকার।
উভয় পরিবারের মধ্যে বোঝাপড়া ও সম্মতি থাকা জরুরি।
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে পরিকল্পনা সাজান।
স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতি
বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ করানো ভালো। কারণ বিয়ের পরে আপনি মেডিকেলে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ নাও থাকতে পারে। তাই বিয়ের পূর্বেই আপনার মেডিকেল চেকআপ করে নেওয়া ভালো যাতে আপনার কোন শারীরিক সমস্যা থাকলে তা চিকিৎসা নিতে পারেন।
মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখুন। জীবনধারায় স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
Read More : পুরাতন গাড়ি কেনার আগে আপনার এই ১০ টি বিষয় জানতেই হবে
যোগাযোগ ও বোঝাপড়া
জীবনসঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।ভবিষ্যতের লক্ষ্য, পরিবার পরিকল্পনা, কাজ বা ক্যারিয়ার নিয়ে। বিয়ের পূর্বে আপনার সাথে যার বিয়ের হওয়ার কথা চলছে তার সাথে এসব বিষয়ে যোগাযোগ করুন এবং একে অপরের সাথে বুঝে পড়া করে নিন।
বিশ্বাস ও সম্মানের ভিত্তি গড়ে তুলুন।
ভবিষ্যতে সমস্যা হলে কিভাবে একসাথে সমাধান করবেন সে বিষয়ে ধারণা রাখুন।
সামাজিক ও আইনগত প্রস্তুতি
বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র (যেমন: জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, বিবাহ নিবন্ধন) প্রস্তুত রাখুন।
সামাজিক অনুষ্ঠান কেমন হবে, অতিথি আমন্ত্রণ, ভেন্যু ইত্যাদি আগে থেকে পরিকল্পনা করুন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিবাহোত্তর জীবন কেমন হবে, কোথায় থাকবেন, ক্যারিয়ার কেমনভাবে এগোবে—এসব নিয়ে পরিষ্কার পরিকল্পনা করুন।
সন্তান, শিক্ষা বা বাসস্থানের ব্যাপারেও আগে থেকে ভেবে রাখা ভালো।
বিয়ে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যথাযথ প্রস্তুতি নিলে বিবাহিত জীবন অনেক বেশি সুখী, সুন্দর ও পরিপূর্ণ হতে পারে। তাই মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ও স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেই নতুন জীবনের পথচলা হবে আরও আনন্দময়।





