শসা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। কিন্তু আমরা শসা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অনেকে অবগত নয়। শসা (Cucumber) হচ্ছে একটি উচ্চ জলীয়াংশ-সমৃদ্ধ নিম্ন ক্যালোরির সবজি। নিয়মিত আপনার খাদ্যতালিকায় শসা রাখলে নিচের উপকারগুলো পেয়ে যাবেন খুব সহজে। শসা খাওয়ার ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
শসা খাওয়ার ১০টি উপকারিতা জেনে নিন
শরীর হাইড্রেটেড রাখে
শসায় প্রায় ৯৫% পর্যন্ত পানি থাকে। শসা গরম আবহাওয়ায় ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সহায়ক। তাই গরম আবহাওয়ার খুব সহজে আপনি নিজের শরীরের উপকারের জন্য শসা খেতে পারেন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবার থাকার কারণে আমাদের পেট ভরা অনুভূতি দেয়। আপনি যখন শসা খাবেন তখন অতিরিক্ত খাওয়া কমাবে। তাতে আপনার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আপনার শরীরে পেট জমার সম্ভাবনা কম থাকবে।
Read More : আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলা এর মধ্যে কেন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে? তাতে আমেরিকার লাভ কি?
হজমশক্তি উন্নত করে
শসার মধ্যে থাকা ডায়েটারি ফাইবার (বিশেষত খোসায়) কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। শসা অনেক সময় খোসা বাদ দিয়ে আমরা খেয়ে থাকি। কিন্তু খোসার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার টি পেয়ে যাবেন। আপনার শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহযোগিতা করবে।
ত্বক ভালো রাখে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সিলিকা আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। শসার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সিলিকা এই কাজ টি আমাদের ত্বকের জন্য খুব সহজে করে দেয়। তাই আমাদের উচিত নিয়মিত শসা খাওয়া।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
শসা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় সোডিয়ামের প্রভাব ভারসাম্য করে। যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। শসার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম আমাদের শসীরের সোডিয়াম কে ভারসাম্য অবস্থায় রাখে। যার ফলে আমাদের উচ্চরক্তচাপের সমস্যায় ভূমিকা রাখে।
ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা
শসার মধ্যে প্রচুর পানি ও ফাইবার থাকে। এই পানি ও ফাইবার আমাদের শরীরের টক্সিন নির্গমনে অত্যন্ত সহায়ক। আমাদের কিডনির কাজ সহজ করে।যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
শসা হচ্ছে নিম্ন গ্লাইসেমিক সূচক। নিম্ন গ্লাইসেমিক সূচক (Low GI) হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ সবজি। যাদের ডায়বেটিস রোগ আছে তাদের উচিত নিয়মিত শসা খাওয়া। কারণ ডায়বেটিস রোগীদের খাবারের ক্ষেত্রে অনেক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু শসা হতে পারে তাদের জন্য নিরাপদ খাবার।
Read More : শসা দিয়ে রেসিপি । শসা দিয়ে ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ শিখে নিন
হাড় মজবুত করে
শসাতে ভিটামিন K রয়েছে। শসায় ভিটামিন K উপস্থিত থাকায় হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। যাদের হাড় দুর্বল তাদের উচিত নিয়মিত শসা খাওয়া। তাছাড়া হাড় মজবুত করতে নিয়মিত দুধ খেতে পারেন।
দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক
আমাদের অনেকের মুখে দুর্গন্ধ থাকে। যাদের মুখে দুর্গন্ধ থাকে তাদের মুখে একটি শসার টুকরা কিছুক্ষণ রাখলে মুখের ভিতর থেকে ব্যাকটেরিয়া কমে আসে।মুখের দুর্গন্ধ হ্রাস পেতে পারে।
হার্টের স্বাস্থ্যে উপকারী
শসা তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে। শসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
শসা খাওয়ার নিয়ম
শসা প্রথমে খোসাসহ ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উত্তম। কারণ শসার অধিকাংশ ফাইবার ও পুষ্টি খোসায় থাকে। তবে কীটনাশক এড়াতে লবণ পানি বা ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে ধুয়ে নিতে পারেন। তাতে করে আপনার শসা পুরোপুরি ভাবে স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠে।






